ইনডেভার ১০ এর কাজ কি,ইনডেভার ১০ খাওয়ার নিয়ম ,ইনডেভার ১০ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ইনডেভার ১০ হল প্রোপ্রানোলল হাইড্রোক্লোরাইড গ্রুপের অ্যাডরেনারজিক রিসিপ্টর বাধা প্রধানকারী ঔষুধ আচ্ছা আরও একটু সহজে বুজানো যাক ইনডেভার ১০ যা উচ্চ রক্তচাপ ও এনজিনা পেক্টরিস এর চিকিৎসায় সাধারণত ব্যবহৃত হয়। ইনডেভার ১০ যার প্রধান উপাদান প্রোপ্রানলল বিটা অ্যাডরেনারজিক রিসিপ্টর এর সাথে যুক্ত হয়ে ক্যাটেকোলামাইন এর কার্যকারিতাকে বাধা প্রধান করে। যার এমন কার্যকারিতায় আমাদের মানব শরীরে হৃদযন্ত্রের সংকুচিত ও প্রসারিত হওয়ার হার কমায় এবং হৃদ যন্ত্রে অক্সিজেনের চাহিদার মাত্রার হার যা পূর্বের থেকে কমিয়ে দেয়।
আসুন জেনে নেওয়া যাক ইনডেভার ১০ এর প্রধান উপাদান টি কিভাবে কাজ করে
আমরা পূর্বেই জেনেছি ইনডেভার ১০ এর প্রধান উপাদান টি হল প্রোপানোলল হাইড্রোক্লোরাইড যার প্রায় অধিকাংশই পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে শোষিত হয়,এবং তার অন্য একটি অংশ যা রক্তে পরিবাহিত হওয়ার সময় তাৎক্ষণিকভাবে যকৃতে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান দ্বারা বিপাক হয়। যা আমাদের সেবনের ১-১.৫ ঘন্টার মধ্যে রক্তরসের সর্বোচ্চ ঘনমাত্রায় পৌঁছায়। রক্তরসে প্রোপানলের পরিমাণ ৩-৬ ঘন্টার মধ্যে অর্ধেক হ্রাস পায়। প্রোপানলের বিপাকক্রিত অংশ যা রেচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূত্রের সাথে শরীর থেকে নির্গত হয়।
ইনডেভার ১০ কেন ব্যবহার করবেন
প্রাথমিক উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে ,
মাইগ্রেনে সমস্যা,এবং যারা অল্পতেই দুশ্চিন্তা
অথবা উদ্বিগ্নতার সমস্যায় ভুগছেন ,
যার হৃদ যন্ত্রের অস্বাভাবিক স্পন্দন হয়ে থাকে ,
যাদের থাইরোটক্সিকোসিস এর সমস্যা রয়েছে , এবং
এটি এনজিনা পেক্টোরিস এর উপসর্গে ও ব্যবহৃত হয়
মাত্রা ও সেবন বিধি
প্রাপ্তবয়স্ক অর্থাৎ যাদের বয়স ১৮ বৎসর বয়সের উপরে :
উচ্চ রক্তচাপ চিকিৎসার ক্ষেত্রে :
রোগীর প্রথম অবস্থায় ৮০ মি.গ্রা. দিনে দুইবার খেতে পারেন, যদি তাতে রোগীর চিকিৎসার উন্নতি না ঘটে তা হলে ঐ ক্ষেত্রে বাড়ানো যেতে পারে সপ্তাহান্তে , সে ক্ষেত্রে ওষুধের মাপ হবে ১৬০-১৮০ m.gm. দৈনিক।
মাইগ্রেনে আক্রান্ত অবস্থায়:
প্রারম্ভিক অবস্থায় এর মাত্রা ৮০ মি.গ্রা. করে দিনে দুইবার সেবন করা যেতে পারে। যদি এতে রোগের চিকিৎসার উন্নতি না ঘটে তাহলে ওই ক্ষেত্রে ওষুধের মাত্রা বাড়ানো যেতে পারে প্রয়োজন অনুযায়ী, এক্ষেত্রে ওষুধের মাত্রা হবে ১৬০-১৮০ ml. g. দিনে।
এনজিনা পেক্টরিস :
রোগীকে প্রথমে ৪০ মি.গ্রা. দিনে ২-৩ বার করে সেবন করতে পারে , তাতে যদি রোগীর অসুস্থতা না কমে অথবা বেড়ে চলে তখন ১২০-২৪০ মি.গ্রা. করে খাওয়া তে হবে দৈনিক।
থাইরোটক্সিকোসিস চিকিৎসায়:
রোগীর প্রাথমিক মুহূর্তে ১০-৪০ মি.গ্রা. করে দিনে ৩-৪ বার সেবন করতে পারে। যদি এক্ষেত্রে চিকিৎসার উন্নতি না ঘটে তাহলে দৈনিক ৮০-১৬০ মিগ্রা মাত্রায় ঔষধ খাওয়া তে হবে।
শিশু অর্থাৎ যাদের বয়স ১ দিন থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত
নবজাতক :
যদি কোন নবজাতক শিশু উপরোক্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে তাহলে তাদের ঔষধের পরিমাণ হবে ০.২৫-০.৫ mg/kg করে দৈনিক ৩ বার খাওয়াতে হবে।
১ মাস বয়সী শিশুথেকে ১২ বৎসর পর্যন্ত শিশুদের বেলায়:
যদি এই বয়স সীমার মধ্যে কোন শিশু উপরোক্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে তাহলে ওষুধের পরিমাণ হবে ০.২৫-১ mg/kg করে দিনে ৩ বার। শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫ মি.গ্রাম./কেজি করে বিভক্ত মাত্রায় খাওয়া তে করাতে পারে।
১২-১৮ বৎসর বয়সী শিশু দের সময় :
প্রথমঅবস্থায় ৮০ মি.গ্রা. করে ২ বার করে খাওয়াতে পারে। পরবর্তীতে অসুস্থতার মাত্রা অনুযায়ী তা ১৬০-৩২০ মিলি.গ্রা. করে দৈনিক সেবন করানো যায়।
** সর্বক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অত্যাবশক **
প্রতিনির্দেশনা:
যে সমস্ত ব্যক্তির ডায়াবেটিস, হৃদযন্ত্রের শখ, দ্বিতীয় বা তৃতীয় মাত্রায় হার্ট অ্যাটার্ক,শ্বাসনালীর সংকোচন ও প্রসারণ প্রভৃতি জটিল রোগে ভুগছেন তাদের ব্যবহার না করাই উচিত।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া:
কিছু কিছু সময় রোগীর পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া,অবসন্নতা অনুভব করা, বমি বমি ভাব হওয়া, মাথা ঘোরা, ঘুম কম হওয়া, প্যারিস্হিসিয়া ইত্যাদি
ঔষধের মিথস্ক্রিয়া:
যে সকল ব্যক্তি সালবিউটামল, ভেরাপ্রামিল, লেভোসালবিউটামল, লিডোকেইন, আরগট এলকালয়েড, ফেনোরবিটাল প্রভৃতি গ্রুপের ঔষধ ব্যবহার করে, তাদেরকে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
সতর্কতা:
যাদের যকৃত বৃক্কের দুর্বলতা রয়েছে এই সমস্ত রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা মেনে চলতে হবে। অন্যদিকে গর্ভাবস্থায় ও যে সমস্ত মায়েরা শিশুদের দুগ্ধ পান করান তাদের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
সংরক্ষণ:
আলো হতে দূরে, শুষ্ক ও ঠান্ডা যুক্ত স্থানে রাখুন।

0 Comments