অতিরিক্ত লেবু খাওয়ার অপকারিতা
এতক্ষণ লেবুর উপকারিতা পড়ে ভাবছেন এখনই লেবু এনে খাওয়া শুরু করবেন..? কিন্তু আপনি জানেন কি এই ফলটি পরিমাণে অতিরিক্ত ও সঠিক ব্যবহার না জানলে হিতে বিপরীত হতে পারে..?
লেবুর অনেক উপকারিতার পাশাপাশি বেশ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও রয়েছে । এখন চলুন জেনে নেই পরিমাণে অতিরিক্ত ও সঠিক ব্যবহার না জানলে লেবু খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে-
বেশি লেবু খাওয়ার অপকারিতা :
১. দাঁতের এনামেল ক্ষয়ে যায়
ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত বিভিন্ন ক্ষারীয় উপাদান দিয়ে গঠিত হয় দাঁতের এনামেল। যা দাঁতের বাহিরে স্ফটিক কাঠামোতে সাজানো থাকে । দাঁতের এনামেলে প্রধানত ক্যালসিয়াম ফসফেট, ক্যালসিয়াম কার্বনেট, ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড, ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড যৌগ গুলোই পাওয়া যায় আর এ ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত দাঁতের এনামেল হল দাঁতের বাইরের স্তর। আমরা যখন অতিরিক্ত লেবু খেয়ে থাকি তখন এর মধ্যে থাকা সাইট্রিক এসিড দাঁতের ক্ষারীয় উপাদানের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে দাঁতের এনামেলকে ক্ষয় করে থাকে।
২. মুখমণ্ডলের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়
আমাদের মুখের অভ্যন্তরে থাকা কোষ ও কোষ গুচ্ছ গুলো সব সময় লালারস দ্বারা ভিজে থাকে যা বিভিন্ন ক্ষারীয় যৌগ দ্বারা গঠিত। পরিমাণে বেশি লেবুর রস গ্রহণের ফলে মুখের মধ্যে থাকা নরম কোষ গুলো সাইট্রিক অ্যাসিড দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মুখে থাকা লালা রস তার সমপরিমাণে সাইট্রিক এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে প্রশমিত হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত সাইট্রিক এসিড যা মুখের অভ্যন্তরের কোষগুলোকে ক্ষত করে ফেলে।
৩. অ্যাসিড এবং বমির আশঙ্কা থাকে
এই বিষয় অনেকটা তেলে মাথায় তেল দেওয়ার মত কেন বললাম বুঝলেন না তো..? আসেন বুঝিয়ে বলি..
ধরেন আপনার পাকস্থলীতে অ্যাসিডিটির মাত্রা বেশি, তো এখন আপনি যদি লেবুর রস পান করেন তাহলে লেবুতে থাকা সাইট্রিক এসিড ও আপনার পাকস্থলীর এসিডের সাথে যুক্ত হলো। এখন আপনি বলেন আপনার এসিডের মাত্রা কমলো না বাড়লো...? নিঃসন্দেহে আরও বেড়ে গেল। অর্থাৎ পরিমাণে অতিরিক্ত কোন জিনিসই ভালো না তাই আপনার এক্ষেত্রে বমি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই থাকে।
৪. পেট খারাপ
মনে করেন আমাদের মধ্যে কারো পেট খারাপ অর্থাৎ তার হয় বদহজম হয়েছে অথবা পেটে অতিরিক্ত গ্যাস জমেছে। এখন এদিকে লেবু রসে থাকা ফাইবার বা রাফেজ বস্তু যা খাবার হজমে সহযোগিতা করে। তবে তা যখন মাত্রাদিক গ্রহণ করা হয় তখন পাকস্থলীতে এসিডের মাত্রা ও বৃদ্ধি পায়, যার ফলে তা বদহজম ও পেট ব্যথার মত অস্বস্তিকর অবস্থা তৈরি করে থাকে।
৫.মাইগ্রেনের সমস্যা
প্রতি ১০০ g লেবুতে প্রায় ০.৯ g উদ্ভিজ প্রোটিন বৃদ্ধমান আর এই লেবুতে থাকা প্রোটিনটি পরিপাক প্রক্রিয়ায় টাইরামিন নামক অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়। যা মাইগ্রেনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য খুবই বিপদজনক। কারণ এটি হঠাৎ করেই মস্তিষ্কে রক্তের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয় যা পরবর্তীতে মাইগ্রেন অ্যাটাক করে।
৬. ডিহাইড্রেড
মাত্রাদিক লেবু পানি পান করা আপনার ঘন ঘন প্রস্রাবের কারণ হয়ে দাঁড়ায় এতে আপনার শরীর থেকে ইলেকট্রোলাইট ও সোডিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান গুলো মূত্রের সাথে বেরিয়ে যায়
এবং এতে আপনার দেহ ডিহাইড্রেড হয়ে পরে।
৭. রক্তে আয়রনের পরিমাণ বেড়ে যায়
ভিটামিন সি যা আমাদের দেহে লোহ বা আয়রন(Fe) সংরক্ষণ করতে সক্ষম, অতিরিক্ত লেবুপানি গ্রহণের ফলে আমাদের দেহের ভিটামিন সি এর পরিমাণ বৃদ্ধি পায় যা দেহে আয়রন মাত্রাদিক সংরক্ষণ করে থাকে যা আমাদের দেহের জন্য হুমকি জনক।
৮. উৎসেচক ভেঙে যায়
প্রয়োজনের বেশি লেবুর রস গ্রহনের ফলে পাক রসের প্রয়োজনীয় উৎসেচক পেপসিন ভেঙে ক্ষতিকর এনজাইম উৎপন্ন হয় যার ফলে আমাদের পেপটিক আলসারের মত মারাত্মক সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

0 Comments